ঠক ঠক শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল যশোধরার!
সিদ্ধার্থ হয়ত ফিরে এসেছেন! দৌরে গিয়ে দরজা খুলে দিলেন তিনি! নাহ! সিদ্ধার্থ নন। প্রহরীরা ফিরে এসেছেন, রাজকুমারকে কোথাও পাওয়া যায়নি, যেন হাওয়ায় মিশে গেছেন। এদিকে প্রায় ঘন্টায় ঘন্টায় মাতা মহাপজাপতি গৌতমি এসে একই কথা জিজ্ঞেস করছেন, তুমি তার স্ত্রী, তোমার তোহ জানার কথা রাজকুমার কোথায় গেছেন কবে ফিরবেন। বার বার একই উত্তর পাচ্ছেন তিনি, মা আমি জানি না। উনি আমাকে কখনোই কিছুই বলে যাননি, আজও তার ব্যাতিক্রম কিছু ছিল না!
গত রাতের ঘটনা, রাহুলের অগত্যা ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ায় সে বাবা-মার ঘরে চলে আসে, ঘরের দরজা খুলার জন্য উঠতে যেয়ে যশোধরা খেয়াল করেন ঘরে সিদ্ধার্থ ছিলেন না। বিছানা খালি! মানে কি? এতো রাতে কোথায় সে? মনটা যেন কেমন করে ওঠে তার! বাবা-মার কাছে ছুটে যেতে ইচ্ছে করলেও রাত অনেক ভেবে বসে পরেন তিনি! রাতটা যাক, হয়ত আসে পাশেই কোথাও গেছেন, শীঘ্রই ফিরে আসবেন। সকাল হবাব পরের ঘটনাতে নাহয় নাই বা যাওয়া যাক! শুধু এতটুক বলা চলে, সিদ্ধার্থের নিশ্চুপ চলে যাওয়ায় অনেকেরা যশোধরাকেই দোষারোপ করছেন! ১৩ বছরের সংসারে স্ত্রী এটাও জানে না তার স্বামী কোথায়? ১৩ বছরের সংসারে এতটুকুও ভালবাসা জন্মেনি তাদের মাঝে যে সে জানবে কোথায় যেতে পারেন সিদ্ধার্থ!
সব চুপচাপ শুনতেন যশোধরা! তাকে সামনে কেউ কিছু না বললেও পিছনে বলার যে কোনই ত্রুটি রাখেনা এটাই ভাল করেই জানেন সে! আজকাল অবশ্য সেও ভাবেন, সিদ্ধার্থ কি আদৌ তাকে ভালবেসেছিলেন? যেই বয়সটাতে তাদের বিয়ে হয় সেটি কি ভালবাসার উপযুক্ত বয়স ছিল? এমনও হতে পারে যে তিনি বাবা-মার চাপে পড়ে বিয়েতে রাজি হন! কিন্তু কই! কখনও তোহ মনে হয়নি সিদ্ধার্থ সুখি নন কিংবা তার জন্য ভালবাসা নেই তার! তার মানে কি হতে পারে? ভাবতে ভাবতে এই রাতটাও কেটে গেলো তার!
আগামিকাল রাহুলের নতুন গুরু আসবেন, এখন আর রাজমহলে বেশি কথা বলার নেই কেউ তার, শুধু দাসীরা খাবার হয়ত দিয়ে যায় কিংবা তাকে ডেকে পাঠানো হয়!
আজ মনে মনে সিধান্ত নেন তিনি, রাতটা হলেই বেরিয়ে পরবেন সে, খুজে বেরাবেন সিদ্ধার্থকে। তাকে জিজ্ঞেস করবেন তার অপরাধ কি ছিল! যেই ভাবা সেই কাজ, রাত হওয়া মাত্রই বেরিয়ে পরলেন ছদ্মবেশে।
আজ রাতের চাঁদটা কি বেশি সুন্দর নাকি সে অনেকদিন পর চাঁদ দেখছেন, চাঁদের আলো দেখতে দেখতে তার খেয়াল নেই তিনি বনের শেষ প্রান্তে চলে এসেছেন, এখন যেন কেমন ছমছমে ভাব, একটু ভয় ভয়ও করছে, ফিরে যাবেন কিনা ভাবতেই চোখে পড়লো কিছু একটা! কাছে যেতেই মনটা কামড়ে উঠলো তার! সিদ্ধার্থ রাজপ্রাসাদ ছাড়ার দিনের সেই রাজপোশাক! চোখের পানি থামাতে পারলেন না তিনি। তবে কি তিনি এখন? না না! এ কিভাবে হতে পারে? সব সময় পাশে থাকার সিদ্ধার্থের কথা, সিদ্ধার্থ রাখবেনই। কথার বিরুদ্ধে যাবেন না তিনি। হাজার মনকে বুঝালেও তার নিজেকে পাগল পাগল মনে হচ্ছিল, প্রায় দুপুরের দিকে সে প্রাসাদে পৌছালেন, দেখলেন তার ঘরের দরজায় ঘন ঘন টোকা দিচ্ছেন কুমার রাহুল। মনটা ভারী হয়ে গেল তার, না! দুঃসংবাদ শুনতে চান না সে। এরই মধ্যে মনে হল কন্ঠকের শব্দ যেন শুনতে পেলেন! আরেহ! কন্ঠক তো শুধু সিদ্ধার্থের! সন্নী ছাড়াতো কন্ঠক শান্ত থাকতে পারে না! তার মানে কি সিদ্ধার্থ ফিরে এসেছেন? কোনরকম রানীসামগ্রী বস্তু ছাড়াই নিচে নামলেন তিনি! কন্ঠক নিচু হয়ে পানি খাচ্ছে আর সন্নী তার ঘাসগুলো সাজিয়ে রাখছেন, সে নিচে নামতেই চোখ নামিয়ে সন্নী সিদ্ধার্থের সিদ্ধান্ত তাকে জানালেন। সিদ্ধার্থ যে বেঁচে আছেন শুনে নিজের কান্না থামাতে আর পারলেন না তিনি!
সিদ্ধার্থকে সম্মান ও ভালবাসার খাতিরে তার সিদ্ধান্ত বুকে পাথর রেখে মেনে নিলেন তিনি! বুঝলেন, সে যতটা সিদ্ধার্থকে ভালবাসেন হয়ত সিদ্ধার্থ বাসেন না, কিন্তু এই পৃথিবীতে তিনি আছেন এতেই তার শান্তি! (c)
সিদ্ধার্থ হয়ত ফিরে এসেছেন! দৌরে গিয়ে দরজা খুলে দিলেন তিনি! নাহ! সিদ্ধার্থ নন। প্রহরীরা ফিরে এসেছেন, রাজকুমারকে কোথাও পাওয়া যায়নি, যেন হাওয়ায় মিশে গেছেন। এদিকে প্রায় ঘন্টায় ঘন্টায় মাতা মহাপজাপতি গৌতমি এসে একই কথা জিজ্ঞেস করছেন, তুমি তার স্ত্রী, তোমার তোহ জানার কথা রাজকুমার কোথায় গেছেন কবে ফিরবেন। বার বার একই উত্তর পাচ্ছেন তিনি, মা আমি জানি না। উনি আমাকে কখনোই কিছুই বলে যাননি, আজও তার ব্যাতিক্রম কিছু ছিল না!
গত রাতের ঘটনা, রাহুলের অগত্যা ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ায় সে বাবা-মার ঘরে চলে আসে, ঘরের দরজা খুলার জন্য উঠতে যেয়ে যশোধরা খেয়াল করেন ঘরে সিদ্ধার্থ ছিলেন না। বিছানা খালি! মানে কি? এতো রাতে কোথায় সে? মনটা যেন কেমন করে ওঠে তার! বাবা-মার কাছে ছুটে যেতে ইচ্ছে করলেও রাত অনেক ভেবে বসে পরেন তিনি! রাতটা যাক, হয়ত আসে পাশেই কোথাও গেছেন, শীঘ্রই ফিরে আসবেন। সকাল হবাব পরের ঘটনাতে নাহয় নাই বা যাওয়া যাক! শুধু এতটুক বলা চলে, সিদ্ধার্থের নিশ্চুপ চলে যাওয়ায় অনেকেরা যশোধরাকেই দোষারোপ করছেন! ১৩ বছরের সংসারে স্ত্রী এটাও জানে না তার স্বামী কোথায়? ১৩ বছরের সংসারে এতটুকুও ভালবাসা জন্মেনি তাদের মাঝে যে সে জানবে কোথায় যেতে পারেন সিদ্ধার্থ!
সব চুপচাপ শুনতেন যশোধরা! তাকে সামনে কেউ কিছু না বললেও পিছনে বলার যে কোনই ত্রুটি রাখেনা এটাই ভাল করেই জানেন সে! আজকাল অবশ্য সেও ভাবেন, সিদ্ধার্থ কি আদৌ তাকে ভালবেসেছিলেন? যেই বয়সটাতে তাদের বিয়ে হয় সেটি কি ভালবাসার উপযুক্ত বয়স ছিল? এমনও হতে পারে যে তিনি বাবা-মার চাপে পড়ে বিয়েতে রাজি হন! কিন্তু কই! কখনও তোহ মনে হয়নি সিদ্ধার্থ সুখি নন কিংবা তার জন্য ভালবাসা নেই তার! তার মানে কি হতে পারে? ভাবতে ভাবতে এই রাতটাও কেটে গেলো তার!
আগামিকাল রাহুলের নতুন গুরু আসবেন, এখন আর রাজমহলে বেশি কথা বলার নেই কেউ তার, শুধু দাসীরা খাবার হয়ত দিয়ে যায় কিংবা তাকে ডেকে পাঠানো হয়!
আজ মনে মনে সিধান্ত নেন তিনি, রাতটা হলেই বেরিয়ে পরবেন সে, খুজে বেরাবেন সিদ্ধার্থকে। তাকে জিজ্ঞেস করবেন তার অপরাধ কি ছিল! যেই ভাবা সেই কাজ, রাত হওয়া মাত্রই বেরিয়ে পরলেন ছদ্মবেশে।
আজ রাতের চাঁদটা কি বেশি সুন্দর নাকি সে অনেকদিন পর চাঁদ দেখছেন, চাঁদের আলো দেখতে দেখতে তার খেয়াল নেই তিনি বনের শেষ প্রান্তে চলে এসেছেন, এখন যেন কেমন ছমছমে ভাব, একটু ভয় ভয়ও করছে, ফিরে যাবেন কিনা ভাবতেই চোখে পড়লো কিছু একটা! কাছে যেতেই মনটা কামড়ে উঠলো তার! সিদ্ধার্থ রাজপ্রাসাদ ছাড়ার দিনের সেই রাজপোশাক! চোখের পানি থামাতে পারলেন না তিনি। তবে কি তিনি এখন? না না! এ কিভাবে হতে পারে? সব সময় পাশে থাকার সিদ্ধার্থের কথা, সিদ্ধার্থ রাখবেনই। কথার বিরুদ্ধে যাবেন না তিনি। হাজার মনকে বুঝালেও তার নিজেকে পাগল পাগল মনে হচ্ছিল, প্রায় দুপুরের দিকে সে প্রাসাদে পৌছালেন, দেখলেন তার ঘরের দরজায় ঘন ঘন টোকা দিচ্ছেন কুমার রাহুল। মনটা ভারী হয়ে গেল তার, না! দুঃসংবাদ শুনতে চান না সে। এরই মধ্যে মনে হল কন্ঠকের শব্দ যেন শুনতে পেলেন! আরেহ! কন্ঠক তো শুধু সিদ্ধার্থের! সন্নী ছাড়াতো কন্ঠক শান্ত থাকতে পারে না! তার মানে কি সিদ্ধার্থ ফিরে এসেছেন? কোনরকম রানীসামগ্রী বস্তু ছাড়াই নিচে নামলেন তিনি! কন্ঠক নিচু হয়ে পানি খাচ্ছে আর সন্নী তার ঘাসগুলো সাজিয়ে রাখছেন, সে নিচে নামতেই চোখ নামিয়ে সন্নী সিদ্ধার্থের সিদ্ধান্ত তাকে জানালেন। সিদ্ধার্থ যে বেঁচে আছেন শুনে নিজের কান্না থামাতে আর পারলেন না তিনি!
সিদ্ধার্থকে সম্মান ও ভালবাসার খাতিরে তার সিদ্ধান্ত বুকে পাথর রেখে মেনে নিলেন তিনি! বুঝলেন, সে যতটা সিদ্ধার্থকে ভালবাসেন হয়ত সিদ্ধার্থ বাসেন না, কিন্তু এই পৃথিবীতে তিনি আছেন এতেই তার শান্তি! (c)
This touched my heart fantastically. I felt like I did the first time I played Jungle in League of Legends (a popular children's game). As I was slaying the monster Gromp I felt a deep tinge of excitement along with a hue of sadness as the monster died, a lively creation fading into the light, giving me its experience and money.
ReplyDelete