Skip to main content

|| তনু ||

এবার বাড়ি যাওয়া যাক ভেবেই বাড়ির দিকে পা বাড়াচ্ছিলো তনু |
বাবা- মাকে অনেক দিন দেখা হয় না | মাঝপথেই মনে পড়ে গেল, সেদিন মা ঠিক অনেকটা বিরক্ত হয়েই বলেছিল রোজ রোজ কিসের আসা মায়ের বাড়ি? রোজ বলতে আসলে কি সেটা ভেবে পেলো না তনু, কারন প্রায় দুই মাস পর গিয়েছিল সেদিন। ভাবী নাকি মাকে বলেছে রোজ বাপের বাড়ি চলে এলে শ্বশুরবাড়ি কি ভাববে?
প্রায় সাত মাস হতে চলেছে তনুর বিয়ে হয়েছে ফরহাদের সাথে |
বিয়ের প্রথম রাতেই তনুর মাথায় বাজ ভেংগে পড়ে | ফরহাদ তনুকে ভালবাসা তোহ দুরের কথা তনুকে বলেছে তাকে দেখতেও চায় না সে, ছুঁয়ে দেখাতো অসম্ভব
 | খুব কান্না পেয়েছিল তনুর সেদিন, সে নিজের অজান্তেই মনের মধ্যে ফরহাদকে অনেকটুকু জায়গা দিয়ে বসে, ভেবে পায় না, এখন তার কি হবে | সাত মাসে অনেক চেস্টা করে ফরহাদের মনে নিজের জন্য জায়গা তৈরী করার, এ সকল প্রচেস্টায় শুধু তিন বার ফরহাদ নেশাগ্রস্থ অবস্থায় তনুকে কাছে টেনে নিয়েছিল। তনুর এতেই শান্তি, ভেবেছিল এতেই হয়ত ফরহাদের মনে ভালবাসার ফুল ফুটতে পারে, কিন্তু ফরহাদের মা তনুকে ইতোমধ্যেই বলে দিয়েছে, ফরহাদ তনুকে চায় না, ফরহাদের বাবার ভুলের মাশুল কেন তার ছেলে বয়ে বেরাবে? তার ভুল হয়ে গেছে তার স্বামীর কথায় ছেলেকে তনুর সাথে বিয়ে দেয়ায়।
তনুকে আগামি দুই মাসের মধ্যেই নিজের একটা ব্যবস্থা করতে হবে |
তনু ভাল নাম তনয়া ইসলাম, ইন্টার পাশ করে ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে ছিলো মাত্র, তখনই প্রস্তাব আসে বিশাল ব্যবসায়ী জব্বার আফতাবের একমাত্র ছেলে ফরহাদ আফতাবের জন্য তনুর। তনুর বাবা সিদ্দিকুর ইসলামের খুশি দেখে কে? দেশের বিশাল ব্যবসায়ী তার মেয়েকে পছন্দ করেছেন তাও কোনও যৌতুক না কিছুই না?! এমন ভাগ্য কয়টা মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ের জুটে?


আজ সকালেই ফরহাদ তনুকে তালাকের কাগজ সই করতে দিয়ে বলেছে, তনু যেন তার বাবা মাকে জানিয়ে দেয় ও কাগজে সই করে দেয় | সাত মাসের মাথায়ই তালাক হয়ে যাওয়া? তনুর মা কখনই মেনে নেবে না এটা | ভেবেই নিবে তনুর ভুল, তনু নিশ্চয়ই কিছু একটা করেছে | মাকে ছোটবেলা থেকেই কখনোই কোন ভুল না থাকতেও তনুকেই দোষারোপ করতে দেখেছে সে, আর এখানে মা'র কাছ থেকে কোনরকম সহায়তার আশা করাও ভুল।
আর বাড়িতে যায়নি তনু, ঠিক করলো সেখানে কাছে যাবে না সে, মা বাবা ছেলে ছেলের বৌ ও তাদের বাচ্চাদের নিয়ে সুন্দর অবস্থায় আছে, সুখে আছে, তনু এখন এগুলো বলতে গেলে ঝামেলা ছাড়া কিছুই লাগবে না তাদের কাছে | তনু ভাবছে, তারতো বাড়ি বলতে কিছুই নেই, কোথাও তার জায়গা নেই এক চিল পরিমানও, কি করে নিজেকে গুছিয়ে সামনের দিকে আগাবে ভাবতে ভাবতে সামনের দিকে পা বাড়ালো সে ||

Comments

Popular posts from this blog

২০১৬ এর পরের ঈদ

আমার প্রতি বছরের চাঁদ রাত কেটে যেত পাপার হয়ে সবাই কে ঈদের শুভেচ্ছা মূলক মেসেজ লিখে পাঠাতে | পাপার ছিল button mobile phone তাই তখন কোনো সহজ উপায় ছিল না তাতে যে মেসেজ forward কিংবা copy and paste করা যাবে, সব individually লিখতে হতো এবং সেটা individually send o করতে হতো! তবুও আমি মহা আনন্দের সাথেই কাজ টা খুবই দায়িত্বএবং গুরুত্ব নিয়ে করতাম | আমার ছোট্ট কাঁধে পাপার দেয়া এই দায়িত্বে খুব গর্ব বোধ করতাম! তার পরের দিনই অর্থাৎ ঈদের দিনই নানুর কাছে ছুটে যেতাম | আমার নানুর মত রান্না কেউ পারবে না, আমার আম্মুও না (যার রান্না এমনিতেও অতুলনীয় তবুও না), নানু খাওয়াতোও একদম ঠেসে- ঠূসে | এমন আদর যত্ন করে সত্য বলতে, আমার আম্মুও খাওয়াতে পারবে না | এত আদর পৃথিবীর আর কেউ আমাকে করতে পারবে না | আমার নানা - নানুর মত আদর আমাকে আর কেউ দিতে পারবে না | মনে পড়ে ছোট্ট বেলায় আমার দাদী আপাও আমাকে প্রচণ্ড আদরে রেখেছেন | আমি তার কাছে গেলেও আমাকে এই বৃদ্ধ হাত দিয়েও কোলে করে রাখতেন, ছাড়তেন না!  এটাই ছিল আমার কাছে ঈদের সব চাইতে অন্যতম মজা আর আনন্দ | এখন বুঝি লিখা- লিখি কেন এত ভালো লাগে কারণ তখনও লাগত, হয়তো ...

Do what has to be done!

ভালোবাসা মানুষের মনকে নরম করে, শক্ত নয়! মন থেকে ভালোবাসলে সেই মানুষের নামে খারাপ কথা শুনা কিংবা বলা যায় না! ওই মানুষকে কষ্ট দিতে পারা যায় না! সেই মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা রটানো যায় না, সেই মানুষের বদনাম করা যায় না, সেই মানুষের সকল দোষ, গুন মনে হয়! কিন্তু সবার ভাগ্যে সেরকম ভালোবাসা জুটে না! সেটা ফ্যামিলি থেকে হোক, কিংবা আত্মীয় স্বজনদের থেকে হোক বা যার থেকেই হোক! অতএব মন পরিষ্কার রেখে ভালো কাজ করে যেতে হবে! যার বুঝার হবে সেই এমনিতেই বুঝবে, যার ভালোবাসার এমনিতেই বাসবে! যার না বুঝার, সে কিছুতেই বুঝবে না, হাজার মন জয় করার সফলতার মাঝেও ব্যর্থতাই কাজ করবে!  

সত্যি বলছি, মিথ্যা নাকি সত্য, আর জানা নাই।

 আজব এক দেশে জন্ম নিলাম, ভাই! সরকারের সাথে সাথে ইতিহাসও পাল্টায়।  তার মানে হচ্ছে, আগামী প্রতি দশ বছর অন্তর অন্তর আপনাদের হয় পাকিস্তান শত্রু না হয় ভারত। প্রতি কয়েক বছর বছর হঠাৎ ইতিহাস হবে আপনাদের বুদ্ধিজীবীদের পাকিস্তান হত্যা করেছে আর না হয় ভারত। একটা সময় হয়ত শুনতে পাব, আপনাদের দেশে কোনো যুদ্ধই হয় নাই। এম্নে এম্নে জন্মায় গেছে ভারত আর পাকিস্তানের দয়ায় আর সকল কিছু গুজব, মিডিয়ার সৃষ্টি।  আপনারা tired হন না!?