Skip to main content

|| প্রয়তি ||

ছেঁড়া স্বপ্ন।।


ঘন ঘন গর্জন পছন্দ না বৈশাখের
তার কাছে বিষয়টা খুবই বিরক্তিকর আজ প্রয়তির বাবা-মার বাসায় যাবার কথা তাদের অনেকদিনের প্রেমকে প্রয়তি তার বাবা মার কাছে তুলে ধরতে চাচ্ছে, তাতে তার আপত্তি নেই কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আর হয়ত আজকে যাওয়া হবে না প্রয়তি এরই মধ্যে নয় বার কল দিয়ে দিয়েছে, ধরার সাহস পাচ্ছে না বৈশাখ এত ঝড়ের শব্দের মধ্যে ওর টর্নেডো শুনতে ইচ্ছে করছে না
-প্রয়তি?
-বলো আব্বু

-তোমার বৈশাখ মাস কোথায়?
-আব্বু, এমনভাবে প্লিজ বলবে না, মা শুনলে তোমার আর আমার দুজনেরই খবর আছে
আর শুনো মাকে বুঝানোর দায়িত্ব তোমার
-আমার উপরেই এই ঝড় কেন?
-এখন ঝড় হচ্ছে তাই, এখন যাওতো, বৈশাখের আজকে আশ্বিন করতে হবে যা মনে হচ্ছে


ঈশান মুচকি হাসি দিয়ে মেয়ের ঘর থেকে সোজা তাদের নিজেদের ঘরের দিকে গেল ফারহাকে আসলেই বুঝাতে হবে প্রয়তির কোন কথাই সে সহজে গ্রাহ্য করে না প্রয়তি ঈশানের যতটা আদরের, ফারহার ততোটাই শাসনের তার উপর থেকে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে প্রেম করছে শুনলেতো কথাই নেই ফারহা কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছে কথা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রইল ঈশান ইতিমধ্যেই ভাবছে সে, এই না কিছুদিন আগেই তাদের বিয়ে হল? প্রিয়মের জন্ম হল? প্রয়তি জন্ম নিল? আর এখন তার সেই ছোট্ট প্রয়তির বিয়ে দিতে হবে?
-কি ব্যাপার, তুমি এখনও যাওনি? ফারহার প্রশ্ন
-আজ বাসায় কাজ আমার
তোমাকে কিছু বলতে যাচ্ছি মনযোগ দিয়ে শুনো আগেই চেঁচামেচি শুরু করে দিবে না
- এবার কি করেছে প্রয়তি?
- কি করবে কিছুই করেনি
ও তোমাকে কিছু বলতে চাচ্ছে ওর কথা শুনে মনে হল আমিই বলে দেই জানু, কথা হচ্ছে কি আমাদের মেয়ে বড় হয়ে গেছে বুঝলা
-জানি
ঘটনা কি বলেই ফেল প্রেম ট্রেম করে? তোমাকে বলেছে?
-না
ইয়ে মানে আসলে ঐ যে অথেন্টিক যে প্রেম তা না
-অথেন্টিক না মানে কি? ফ্লারটিং করছে? কি বল এসব?
-আরেহ না ধুর
ফ্লারট করতে যাবে কেন? সিরিয়াস বিয়ে করতে চায়
-কিহ????!!!
প্রায় ঘন্টাখানেক লেগে গেলো ঈশানের ফারহাকে প্রয়তির বিষয় বুঝাতে ও বৈশাখের সাথে দেখা করানোর জন্য রাজি করাতে



বিশাল এক সাদা বাংলো ধরনের বাড়ি দুই পাশে দুটো আম গাছ বাড়িটা দেখে কেন যেন জমিদার বাড়ি মনে হয় ধানমন্ডিতে আজকাল এমন বাড়ি চোখে পড়ে না সচরাচর এখন সবই প্রায় ফ্ল্যাট বাড়ি হয়ে যাচ্ছে বাড়ির কারুকার্য দেখে মুগ্ধ বৈশাখ প্রয়তি প্রায়ই বলতো তার বাবা-মার রুচি নাকি অসাধারন, আসলেই ঠিক তাই

কিছুদিন হল বৈশাখ অ্যাডিশনাল আইজি হয়েছে পুলিশের
মাত্র ২৭ বছর বয়স, এত কম বয়সে এ এক বিশাল অর্জন দেখতেও খুবই ভাল, কোন মেয়েই তাকে অবহেলা করতে পারবে না কিন্তু সে যাকে ভালবাসে তার মা নাকি পুলিশ পছন্দ করে না (প্রয়তির মা বর্তমানে সুপ্রীম কোর্টের জাস্টিস) কি আশ্চর্য ওর দেয়া প্রস্তাব বড় বড় মন্ত্রিরাও হাতছাড়া করবে না অবশ্য প্রয়তি মন্ত্রীর মেয়েই কিন্তু ওর পরিবার নাকি আলাদা দেখা যাক, কেমন আলাদা
- আসসালামু আলাইকুম
-ওয়ালাইকুমাস সালাম
তুমি পুলিশ? (প্রয়তির মায়ের প্রথম প্রশ্ন)
-জি
(প্রথম প্রশ্নেই কেমন জানি ভয় ভয় করছে বৈশাখের যেন পুলিশের ইন্টেরোগেশনে বসেছে সে)
- প্রয়তি আই বিলিভ তোমাকে সবই বলেছে তারপরও কি কোন ফরমাল পরিচয়ের দরকার আছে?
- না আন্টি

- তাহলে বলো
কি বলতে চাও

বৈশাখ বুঝতে পারছে না সে কিভাবে শুরু করবে তাকে বাচিয়ে দিল প্রয়তি
সে সরাসরি বলে উঠলো,
- মা
আমি আর বৈশাখ দুজন দুজনকে ভালবাসি, বিয়ে করতে চাই
ফারহা চুপচাপ প্রয়তির দিকে শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, যেন বলছে তুমি কেন কথা বলছ?
ঈশান ফারহার মনভাব বুঝতে পেরে নিজেই কথাই শুরু করলো।
- তোমরা যেহেতু দিসিশান নিয়েই নিয়েছ আর বৈশাখের ফ্যামিলিও রাজি আছে তাহলে বাবা হিসেবে কিছু কথা বলছি। আমার মেয়ে রান্না করতে পারে না। রান্না করতে গেলে নিজেই জ্বলে যাবে।
- জি, জানা আছে।
- ওর ফ্লাওয়ার আরেঞ্জমেন্ট বাগানের ফুলের নিচে থাকা পরে থাকা ময়লার চাইতেও খারাপ দেখায়!
- কি বলছ এসব বাবা! (প্রয়তির চেহারা লজ্জায় লাল হয়ে গেছে)

- জি জানি (বৈশাখ মুচকি হাসি দিল)
ঈশান মনে মনে খুশি হয়েছে। ফারহাও মনে মনে খুশি। এখন ঈশানের বাবা-মার প্রয়তিকে দেখার পালা।



দেখতে দেখতে রোজা শুরু
সকলের মতামত নিয়েই দুই পরিবার ঠিক করেছিল বিয়ে রোজার ঈদের পর পরই হবে। ইতোমধ্যে দুই পরিবার ভালই কাছাকাছি চলে এসেছে, ওই যেটাকে বলে বিয়ে শুধু দুটি মানুষের না, দুটা পরিবারের এক হওয়ার এক মাধ্যম।
রাত প্রায় ৮টা বেজে ২৫।  প্রয়তি ও বৈশাখ মোবাইলে কথা বলছে। শাড়ি নিয়ে বায়না, প্রয়তির শাড়ি পছন্দ হয়নি!

- শুনো, আমি লাল শাড়ি পড়তে পারব না। এটা চেঞ্জ করে আমাকে আকাশী অথবা সবুজ শাড়ি দিবে

- এ কেমন কথা আবার? বিয়েতে কেউ সবুজ পড়ে? আর আকাশীটা কেমন যেন লাগে! তোমাকে লাল দিয়েছি
, একদম রক্ত লাল। তোমাকে একদম লাল টুকটুকে পরীর মত লাগবে। আমার তোমাকে ওভাবে দেখার খুব ইচ্ছা।
- কখনই না। লাল রংই সহ্য হয় না আমার, আর তুমি বলছ রক্ত লাল? অসম্ভব।

এরই মধ্যে বিকট শব্দ হল, প্রয়তি চিৎকার করে উঠলো,
- কি হলো বৈশাখ? কিসের শব্দ ছিল এমন?
- বুঝলাম না, এই তুমি ফোনটা রাখতো আমি দেখে আসি।
বৈশাখ বারান্দায় এসে দেখলো রাস্তায় চেঁচামেচি শুরু হয়ে গেছে। সে নিচে নামার জন্য যাবে এর মধ্যেই মোবাইল বেজে উঠলো, ও ভাবলও প্রয়তিই আবার কল দিয়েছে,
- প্রয়তি পাশের রাস্তায় কিছু একটা হয়েছে পরে কথা বলছি!
- স্যার আমি সুজন।
- ও সুজন তুমি! হ্যা বল কি হয়েছে, কোন নিউজ?
- স্যার আপনার পাশের রাস্তাতেই যে এক বিদেশি ক্যাফেটেরিয়া আছে সেখানে টেরোরিস্ট অ্যাটাক করেছে।



রাত ৩.৪৭
প্রয়তি পাথরের মত বসে আছে। টিভিতে বৈশাখের কথা বলা হচ্ছে। কিভাবে সে ক্যাফেটেরিয়ার মানুষদের বাঁচাতে যেয়ে তাকে গুলিবিদ্ধ করা হয়েছে, কিভাবে তার রক্তাক্ত মৃতদেহ গেটের কাছে পড়ে ছিল!

- প্রয়তি! (ঈশানের গলা যেন কেউ চেপে ধরেছে।) চল মা। তোমাকে ডাকছে।
(ঈশানের ইচ্ছা করছে পালিয়ে যেয়ে কোথাও হাউমাউ করে কাঁদতে।)

প্রয়তিকে রেডি হতে বলে এসে দেখলো ফারহা হাউমাউ করেই কাঁদছে, তখন আর সে নিজেকে আটকাতে পারলো না। তারা দুজনেই জানে, প্রয়তি আর কখনই স্বাভাবিক হতে পারবে না।

বৈশাখের বাসায় তার লাশ সকল ফরমালিটিস শেষ করে পৌছাতে পৌছাতে সকাল হয়ে গেল। ঈশান ও বৈশাখের বাবা রেজোয়ান আফতাব একসাথে পাথরের মত দাড়িয়ে আছেন, বৈশাখের মা শাহানারা আফতাব প্রয়তিকে দেখে একবার হুশ হারিয়ে ফেলেন তার। বৈশাখের লাশকে জাতীয় সম্মান দিবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। সবাই সাদা পরে এসেছে। শুধু প্রয়তি একদম বউ সেজে এসেছে, পড়েছে সেই রক্ত লাল শাড়িটি। 
বৈশাখের লাশের কাছে গিয়ে ওর হাতটা নিয়ে এই প্রথম কথা বলল সে,

তুমি না আমাকে লাল শাড়িতে দেখতে চেয়েছিলে? এখন উঠে আমাকে দেখ না? কেমন লাগছে বল!

ঘরের সকলে শুধু চিৎকার আর আর্তনাদ শুনল প্রয়তির।




Comments

Popular posts from this blog

২০১৬ এর পরের ঈদ

আমার প্রতি বছরের চাঁদ রাত কেটে যেত পাপার হয়ে সবাই কে ঈদের শুভেচ্ছা মূলক মেসেজ লিখে পাঠাতে | পাপার ছিল button mobile phone তাই তখন কোনো সহজ উপায় ছিল না তাতে যে মেসেজ forward কিংবা copy and paste করা যাবে, সব individually লিখতে হতো এবং সেটা individually send o করতে হতো! তবুও আমি মহা আনন্দের সাথেই কাজ টা খুবই দায়িত্বএবং গুরুত্ব নিয়ে করতাম | আমার ছোট্ট কাঁধে পাপার দেয়া এই দায়িত্বে খুব গর্ব বোধ করতাম! তার পরের দিনই অর্থাৎ ঈদের দিনই নানুর কাছে ছুটে যেতাম | আমার নানুর মত রান্না কেউ পারবে না, আমার আম্মুও না (যার রান্না এমনিতেও অতুলনীয় তবুও না), নানু খাওয়াতোও একদম ঠেসে- ঠূসে | এমন আদর যত্ন করে সত্য বলতে, আমার আম্মুও খাওয়াতে পারবে না | এত আদর পৃথিবীর আর কেউ আমাকে করতে পারবে না | আমার নানা - নানুর মত আদর আমাকে আর কেউ দিতে পারবে না | মনে পড়ে ছোট্ট বেলায় আমার দাদী আপাও আমাকে প্রচণ্ড আদরে রেখেছেন | আমি তার কাছে গেলেও আমাকে এই বৃদ্ধ হাত দিয়েও কোলে করে রাখতেন, ছাড়তেন না!  এটাই ছিল আমার কাছে ঈদের সব চাইতে অন্যতম মজা আর আনন্দ | এখন বুঝি লিখা- লিখি কেন এত ভালো লাগে কারণ তখনও লাগত, হয়তো ...

Do what has to be done!

ভালোবাসা মানুষের মনকে নরম করে, শক্ত নয়! মন থেকে ভালোবাসলে সেই মানুষের নামে খারাপ কথা শুনা কিংবা বলা যায় না! ওই মানুষকে কষ্ট দিতে পারা যায় না! সেই মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা রটানো যায় না, সেই মানুষের বদনাম করা যায় না, সেই মানুষের সকল দোষ, গুন মনে হয়! কিন্তু সবার ভাগ্যে সেরকম ভালোবাসা জুটে না! সেটা ফ্যামিলি থেকে হোক, কিংবা আত্মীয় স্বজনদের থেকে হোক বা যার থেকেই হোক! অতএব মন পরিষ্কার রেখে ভালো কাজ করে যেতে হবে! যার বুঝার হবে সেই এমনিতেই বুঝবে, যার ভালোবাসার এমনিতেই বাসবে! যার না বুঝার, সে কিছুতেই বুঝবে না, হাজার মন জয় করার সফলতার মাঝেও ব্যর্থতাই কাজ করবে!  

সত্যি বলছি, মিথ্যা নাকি সত্য, আর জানা নাই।

 আজব এক দেশে জন্ম নিলাম, ভাই! সরকারের সাথে সাথে ইতিহাসও পাল্টায়।  তার মানে হচ্ছে, আগামী প্রতি দশ বছর অন্তর অন্তর আপনাদের হয় পাকিস্তান শত্রু না হয় ভারত। প্রতি কয়েক বছর বছর হঠাৎ ইতিহাস হবে আপনাদের বুদ্ধিজীবীদের পাকিস্তান হত্যা করেছে আর না হয় ভারত। একটা সময় হয়ত শুনতে পাব, আপনাদের দেশে কোনো যুদ্ধই হয় নাই। এম্নে এম্নে জন্মায় গেছে ভারত আর পাকিস্তানের দয়ায় আর সকল কিছু গুজব, মিডিয়ার সৃষ্টি।  আপনারা tired হন না!?