রিপোর্টগুলো আবারও পড়ে দেখলেন অভিজ্ঞ ডাক্তার আলতাফুর সাহেব। নাহ! এবারও সেই একই উত্তর দিবেন তিনি তার সামনে বসে থাকা নাহার সুলতানাকে। বাচ্চা দুটার যেকোন একটাকে বাঁচানো যাবে আগে বলা হয়েছিল, আর এখন বুঝাই যাচ্ছে একটা বাচ্চার কাছে ৮০% এর মত কিডনি আছে আর আরেকজনের কাছে বাকি ২০%। আলাদা করতে চাইলে শুধু একজন বাঁচবে। আলাদা না করলেও অনেক সমস্যা আছে। ঝুকি থেকেই যাবে জীবনের তাদের।
পাথরের মত বসে রইলেন নাহার। আফজালের নাহারের দিকে তাকানোর সাহস হলো না। শুধু ভাবছে, তার পাপের শাস্তি কি আল্লাহ তার বাচ্চা দুটোকে দিলেন?
গত ৩ সেপ্টেম্বর আফজাল ও নাহারের যুগল সন্তান জন্ম নেয়, সে যে কি খুশি! আনন্দের কোন ঠিকানা ছিল না উভয় পরিবারেরই! কিন্তু একি! বাচ্চা দুটোকে এরকম একসাথে ধরে রেখেছে কেন নার্সটা? না! একসাথে ধরে রাখেনি! তারা জন্মেছেই একসাথে জোড়া লেগে। মাথা হাত পা সবই আলাদা! শুধু পেটটা একটাই ফুলে রয়েছে! একটা বাচ্চা নড়া-চড়া করছে কম! দেখেই পরিবারের সবার চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে গেলো। একি জন্ম দিল নাহার? আফজালের মা তোহ সরাসরি বলেই দিলেন এই বাচ্চাগুলা আফজালের হতেই পারে না। জিজ্ঞেস করো নাহারকে কোত্থেকে মুখে চুনকালি মেখে এসেছিলো আর তার ছেলের ঘাড়ে চেপে বসেছে!
আফজাল কোন প্রতিবাদও করছে না আর কোন সম্মতিও দিচ্ছে না। সে ভাল করেই জানে বাচ্চা তারই।
ডাক্তাররা বার বার ত্বরা দিচ্ছেন, তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নাহয় দুটা বাচ্চাই মারা যেতে পারে।
নাহার এখনও কিছুই বলেনি! আফজাল একবার তাকে জিজ্ঞেস করে কিন্তু উত্তর দেয়নি নাহার। আফজালের বাবা, শমশের সাহেব ভালই বিজ্ঞ একজন তিনি বললেন তাড়াতাড়ি একটা বাচ্চাকে বাচিয়ে দিতে, অন্তত একটা নাতির মুখ দেখুক পরিবার।
আফজাল পারমিশন স্লিপে সই করে দেয়। অপারেশন শুরু হতে যাবে ঠিক সেই সময়ে চেঁচামেচি শুরু করে নাহার! কেউ যাতে তার বাচ্চাদের গায়ে হাতটাও না দেয়। দুটাকেই বাঁচাবে সে। দেশ এখন অনেক উন্নত! এই ডাক্তার কিছু জানে না। সে আরও অভিজ্ঞ ডাক্তার দেখাবে লিলি-রোজকে!
বাচ্চা দুটোই মেয়ে। নাহারের লিলি আর রোজ নাম দুটা খুব ভাল্লাগে। সে ঠিক করে রেখেছিলো যে মেয়ে হলে এর যেকোন একটা নাম দিবে! কি আশ্চর্য! আল্লাহ অপরিসীম কুদরতে দুটাই মেয়ে। অবশ্য ডেলিভারীর কিছুক্ষনের মধ্যের আল্লাহর পরিক্ষা চোখে পড়লো তার। তার লিলি'রোজ স্বাভাবিকভাবে জন্মেনি! আর তাকে খুব শিগ্রই তাদের যেকোন একজনকে বেঁছে নিতে হবে! সে এটা কখনই পারবে না! কিন্তু তার পরিবারের কাছে হার মানতে হলো। লিলিকে বাঁচানো হলো, রোজ মারা গেলো।
দেখতে দেখতে প্রায় দশ বছর কেটে গেলো!
লিলি এখন স্কুলে যায়, ক্লাসে সেরা সে। ড্রইং থেকে শুরু করে সব কিছুতেই তার আশ্চর্য দক্ষতা। আফজাল রোজই লিলিকে স্কুলে আনতে যায়, দাদা দাদিও যান মাঝে মাঝে কিন্তু নাহার কখনই যায় না। সে লিলিকে ছুঁয়েও দেখেনা, সে লিলির মাঝে রোজকেও খুজে কিন্তু লিলিই তোহ রোজের মৃত্যুর কারন! সে পারত না বোনের সাথে শেয়ার করতে সব? তার বেশিই লাগতো সব? ডাক্তাররা বলেছিল যদি রোজের কাছে ৫০% ও থাকতো তাও বাঁচানো যেতো দুজনকেই! লিলি বেশি পেয়েছে সব, হিংসুটে ও।
নাহারকে কখনই লিলির প্রতি ভালবাসা দেখাতে দেখতে পাওয়া যায়নি। আফজাল অনেক চেস্টা করে বুঝাতে এখানে লিলির কোন দোষ ছিলো না, সব তোহ আল্লাহর ইচ্ছা! কিন্তু বোঝা্নো যায় না নাহারকে। আল্লাহর ইচ্ছা হলে দুটা মেয়ে দিতোই না।
এভাবেই লিলি বড় হয়ে গেলো, মা থাকতেও তার মা ছিলো না, বাবা সব করতো। তার সব দায়িত্ব বাবা সম্পন্ন করে।
লিলির এখন ২৩ বছর, অনেক সুন্দরি বলেই বিয়ের কাজ প্রায় প্রতি দিনই আসে, এসেই নাহারকে তা গুনি মেয়ের কথা জিজ্ঞেস করে, প্রতিবারই নাহারের ব্যবহারের জন্য কেউ আর আগ বাড়ায় না বিয়েতে। নাহার আগেই বলে এই মেয়েকে তাড়াতাড়ি নিয়ে যান, আমার কিছু দেখা লাগবে না। ছেলে যেমনই হোক, শুধু নিয়ে যাক বিপদটাকে। লিলি সবই দেখতো কিন্তু তার মাথায় তার অপরাধটা আসতো না। সে অনেকবার মাফও চেয়েছে নাহারের কাছে কিন্তু নাহার অটল। গত রাতে সে যেই ছেলেকে ভালোবাসতো সেই ছেলে সুইসাইড করে, বাবার পর সবুজ ছিলো তার কাছের মানুষ। এখন কি করবে ভেবে পাচ্ছে না লিলি। কিন্তু সবুজ গতকাল সকালেই ভার্সিটিতে তাকে বলেছিলো, হাজার হোক মা তোমার সে। তুমি তার সাথে আঠার মত লেগে থাকো। ভালবাসতে বাধ্য করো। লিলি ভেবে নিয়েছে সবুজ যা বলেছে সে তাই করবে! ভালবাসাবে তার মা কে! সে বেরয়ে পরল রুম থেকে, তার মা তার চেহারা দেখে না, এবং কখনও যাতে না দেখতে হয় সেই জন্য মাঝে গ্লাসের পর্দা দেয়া হয়েছে! রুম থেকে হাতুড়ি হাতে বের হলো লিলি।
পাথরের মত বসে রইলেন নাহার। আফজালের নাহারের দিকে তাকানোর সাহস হলো না। শুধু ভাবছে, তার পাপের শাস্তি কি আল্লাহ তার বাচ্চা দুটোকে দিলেন?
গত ৩ সেপ্টেম্বর আফজাল ও নাহারের যুগল সন্তান জন্ম নেয়, সে যে কি খুশি! আনন্দের কোন ঠিকানা ছিল না উভয় পরিবারেরই! কিন্তু একি! বাচ্চা দুটোকে এরকম একসাথে ধরে রেখেছে কেন নার্সটা? না! একসাথে ধরে রাখেনি! তারা জন্মেছেই একসাথে জোড়া লেগে। মাথা হাত পা সবই আলাদা! শুধু পেটটা একটাই ফুলে রয়েছে! একটা বাচ্চা নড়া-চড়া করছে কম! দেখেই পরিবারের সবার চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে গেলো। একি জন্ম দিল নাহার? আফজালের মা তোহ সরাসরি বলেই দিলেন এই বাচ্চাগুলা আফজালের হতেই পারে না। জিজ্ঞেস করো নাহারকে কোত্থেকে মুখে চুনকালি মেখে এসেছিলো আর তার ছেলের ঘাড়ে চেপে বসেছে!
আফজাল কোন প্রতিবাদও করছে না আর কোন সম্মতিও দিচ্ছে না। সে ভাল করেই জানে বাচ্চা তারই।
ডাক্তাররা বার বার ত্বরা দিচ্ছেন, তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নাহয় দুটা বাচ্চাই মারা যেতে পারে।
নাহার এখনও কিছুই বলেনি! আফজাল একবার তাকে জিজ্ঞেস করে কিন্তু উত্তর দেয়নি নাহার। আফজালের বাবা, শমশের সাহেব ভালই বিজ্ঞ একজন তিনি বললেন তাড়াতাড়ি একটা বাচ্চাকে বাচিয়ে দিতে, অন্তত একটা নাতির মুখ দেখুক পরিবার।
আফজাল পারমিশন স্লিপে সই করে দেয়। অপারেশন শুরু হতে যাবে ঠিক সেই সময়ে চেঁচামেচি শুরু করে নাহার! কেউ যাতে তার বাচ্চাদের গায়ে হাতটাও না দেয়। দুটাকেই বাঁচাবে সে। দেশ এখন অনেক উন্নত! এই ডাক্তার কিছু জানে না। সে আরও অভিজ্ঞ ডাক্তার দেখাবে লিলি-রোজকে!
বাচ্চা দুটোই মেয়ে। নাহারের লিলি আর রোজ নাম দুটা খুব ভাল্লাগে। সে ঠিক করে রেখেছিলো যে মেয়ে হলে এর যেকোন একটা নাম দিবে! কি আশ্চর্য! আল্লাহ অপরিসীম কুদরতে দুটাই মেয়ে। অবশ্য ডেলিভারীর কিছুক্ষনের মধ্যের আল্লাহর পরিক্ষা চোখে পড়লো তার। তার লিলি'রোজ স্বাভাবিকভাবে জন্মেনি! আর তাকে খুব শিগ্রই তাদের যেকোন একজনকে বেঁছে নিতে হবে! সে এটা কখনই পারবে না! কিন্তু তার পরিবারের কাছে হার মানতে হলো। লিলিকে বাঁচানো হলো, রোজ মারা গেলো।
দেখতে দেখতে প্রায় দশ বছর কেটে গেলো!
লিলি এখন স্কুলে যায়, ক্লাসে সেরা সে। ড্রইং থেকে শুরু করে সব কিছুতেই তার আশ্চর্য দক্ষতা। আফজাল রোজই লিলিকে স্কুলে আনতে যায়, দাদা দাদিও যান মাঝে মাঝে কিন্তু নাহার কখনই যায় না। সে লিলিকে ছুঁয়েও দেখেনা, সে লিলির মাঝে রোজকেও খুজে কিন্তু লিলিই তোহ রোজের মৃত্যুর কারন! সে পারত না বোনের সাথে শেয়ার করতে সব? তার বেশিই লাগতো সব? ডাক্তাররা বলেছিল যদি রোজের কাছে ৫০% ও থাকতো তাও বাঁচানো যেতো দুজনকেই! লিলি বেশি পেয়েছে সব, হিংসুটে ও।
নাহারকে কখনই লিলির প্রতি ভালবাসা দেখাতে দেখতে পাওয়া যায়নি। আফজাল অনেক চেস্টা করে বুঝাতে এখানে লিলির কোন দোষ ছিলো না, সব তোহ আল্লাহর ইচ্ছা! কিন্তু বোঝা্নো যায় না নাহারকে। আল্লাহর ইচ্ছা হলে দুটা মেয়ে দিতোই না।
এভাবেই লিলি বড় হয়ে গেলো, মা থাকতেও তার মা ছিলো না, বাবা সব করতো। তার সব দায়িত্ব বাবা সম্পন্ন করে।
লিলির এখন ২৩ বছর, অনেক সুন্দরি বলেই বিয়ের কাজ প্রায় প্রতি দিনই আসে, এসেই নাহারকে তা গুনি মেয়ের কথা জিজ্ঞেস করে, প্রতিবারই নাহারের ব্যবহারের জন্য কেউ আর আগ বাড়ায় না বিয়েতে। নাহার আগেই বলে এই মেয়েকে তাড়াতাড়ি নিয়ে যান, আমার কিছু দেখা লাগবে না। ছেলে যেমনই হোক, শুধু নিয়ে যাক বিপদটাকে। লিলি সবই দেখতো কিন্তু তার মাথায় তার অপরাধটা আসতো না। সে অনেকবার মাফও চেয়েছে নাহারের কাছে কিন্তু নাহার অটল। গত রাতে সে যেই ছেলেকে ভালোবাসতো সেই ছেলে সুইসাইড করে, বাবার পর সবুজ ছিলো তার কাছের মানুষ। এখন কি করবে ভেবে পাচ্ছে না লিলি। কিন্তু সবুজ গতকাল সকালেই ভার্সিটিতে তাকে বলেছিলো, হাজার হোক মা তোমার সে। তুমি তার সাথে আঠার মত লেগে থাকো। ভালবাসতে বাধ্য করো। লিলি ভেবে নিয়েছে সবুজ যা বলেছে সে তাই করবে! ভালবাসাবে তার মা কে! সে বেরয়ে পরল রুম থেকে, তার মা তার চেহারা দেখে না, এবং কখনও যাতে না দেখতে হয় সেই জন্য মাঝে গ্লাসের পর্দা দেয়া হয়েছে! রুম থেকে হাতুড়ি হাতে বের হলো লিলি।

Comments
Post a Comment